<p><strong>কলকাতা: </strong>নতুন পথ চলা শুরু সায়নী ঘোষের। অভিষেকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেড়ে যাওয়া পদেই অভিষেক হবে সায়নীর। তৃণমূলের তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী হচ্ছেন সায়নী ঘোষ। আর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন অভিষেক। শনিবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসেছিলেন তৃণমূলে শীর্ষ নেতা-নেত্রীরা। দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।</p> <p>পদ ঘোষণা হবার পরে অবাক সায়নী। খুশিও। এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সায়নী বলছেন, 'নাম ঘোষণা শুনে আকাশ থেকে পড়েছিলাম। ঠিক যেমনটা হয়েছিল তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার সময়। তবে অবশ্যই এটা গুরুদায়িত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আর অবশ্যই কৃতজ্ঞ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। উনি নিজের জায়গাটা আমায় দিয়েছেন। এটার গুরুত্ব বুঝতে পারছি। আমি ওনাদের আশাহত করব না কখনও।'</p> <p>গুরুদায়িত্ব নিয়ে কাজের কী কী পরিকল্পনা রয়েছে সায়নীর? অভিনেত্রী বলছেন, 'দায়িত্ব পেয়ে মনে হচ্ছে এখনই কাজ শুরু করে দিই। ঠিক যেমনটা মনে হয়েছিল নির্বাচনের প্রার্থী হয়ে। তবে এখন করোনা পরিস্থিতি। অনেক মানুষ নিয়ে খুব বড় করে কাজ শুরু করা যাবে না। ছোট ছোট দল নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। মেনে চলতে হবে করোনাবিধি। তবে, রাজ্যটা পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল যুব কোনও ছোট জায়গা নয়, অনেকটা বড় জায়গা। সবচেয়ে বড় কথা, তৃণমূল যুব মুখ্যমন্ত্রীর হৃদয়ে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বার বার বলেন যুবসমাজের কথা। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা আর যুব সমাজের উৎসাহ-উদ্দিপনা নিয়ে কাজ করব। খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে।'</p> <p>অনেকক্ষেত্রেই যুব তৃণমূল ও তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছে। সেই সব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য কী পরিকল্পনা রয়েছে সায়নীর? হাসতে হাসতে অভিনেত্রী বললেন, 'আমি এসে গিয়েছি তো, এবার সব চলে যাবে। তবে আমাকেও আগে সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। একটা পরিবারে বসবাস করলে একটু বচসা, একটু মনোমালিন্য় হতেই পারে। অনেকসময় যুবদের মনে হয় মূল দল একটু দূরে সরে গিয়েছে। আবার হয়ত মূল দলের মনে হয় যুবরা একটু বেশিই জড়িয়ে পড়ছে সমস্ত বিষয়ে। সমস্ত বিষয়টাই ব্যালেন্সের। আমি সেটা বিশ্বাস করি। আমি যখন প্রার্থী হিসাবে আসানসোলে গিয়েছিলাম তখন আমি তৃণমূলের মূল দল ও যুব দলের সঙ্গে কাজ করেছি। আশা করছি গোটা রাজ্য জুড়েই তাই হবে।'</p> <p>সায়নীকে নতুন দায়িত্ব নিয়ে কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সায়নী বলছেন, 'দিদি বললেন, এটা অনেক বড় দায়িত্ব। খুব মন প্রাণ ঢেলে কাজ করতে হবে। আর আমি অনেক আগেই বলেছি, আমি এখানে শুধুমাত্র চেয়ার বা ক্ষমতার লোভে আসিনি। অভিনেত্রী.. ভোটে লড়লাম। জিতলে ৪ বছর পরে এলাম.. হেরে গেলে কখনও এলাম না, এই ধারণাটাই ভাঙতে হবে। আমার দল ইতিমধ্যেই বুঝেছে আমি রাজনীতি নিয়ে কতটা সিরিয়াস, এবার মানুষের মধ্যে সেই বিশ্বাসটাই ছড়িয়ে দিতে হবে। আমার খুব মনে হয়, যুবসমাজ আমার জায়গা। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অনেক মানুষকে কাছাকাছি আনতে হবে। অনেকরকম অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে রয়েছে আমাদের জন্য। আমি তো আজকে থেকেই কাজ শুরু করে দিতে চাই।'</p> <p>কেবল সায়নী বা অভিষেক নয়, এদিন রদবদল হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও। এসেছে অনেক নতুন মুখও।</p> <p>সর্বভারতীয় মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী হচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কৃষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি হতে চলেছেন পূর্ণেন্দু বসু। রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক হলেন কুণাল ঘোষ। </p> <p>পাশাপাশি, বঙ্গ জননী বাহিনীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মালা রায়কে। তৃণমূলের কালচারাল সেলের প্রধান হচ্ছেন রাজ চক্রবর্তী। </p> <p>বৈঠকের পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘তৃণমূলে এক ব্যক্তি এক পদ নীতি কার্যকর হয়েছে। বাংলার বাইরেও সংগঠন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবে তৃণমূল। বিভিন্ন রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিস্তারের লক্ষ্যে কাজ করবেন সাংসদরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃঢ় নেতৃত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছে দল।’</p> <p>এছাড়া, ৮টি জেলার রাজ্য সভাপতির রদবদল ঘটেছে বলে সূত্রের খবর। বিপুল জয়ের পর আজ দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলে শীর্ষ নেতা-নেত্রীরা। দুপুরে তৃণমূলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হয়। </p> <p>এরপর মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, পুর প্রশাসক এবং শাখা সংগঠনের প্রধানদের নিয়ে হয় কোর-কমিটির বৈঠক। একটি বৈঠক হয় সরাসরি, আর একটি বৈঠক হয় ভার্চুয়ালি। দলত্যাগীদের তৃণমূলে ফেরা প্রসঙ্গেও হয়েছে আলোচনা। </p> <p>ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের নেতাদের কড়া বার্তা দেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নেতৃত্বকে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে কড়া বার্তা দেন। মমতা বলেন, ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে হবে। গরু-কয়লা কেলেঙ্কারিতে যেন কেউ না জড়িয়ে পড়েন। কথায় কথায় লালবাতি লাগানো গাড়ি ব্যবহার নয়।’</p> <p>বিধানসভা ভোটে বিপুল সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। এবার ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দলকে আরও সংযত হওয়ার বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনওমতেই আপস করা হবে না কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। </p> <p>ভোটের ফলপ্রকাশের একমাস পর, আজ, শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মেগা বৈঠক হয় তৃণমূল ভবনে। ওয়ার্কিং কমিটির পর, কোর কমিটির বৈঠকে দলীয় নেতা-কর্মীদের একগুচ্ছ নির্দেশ দেন তৃণমূল নেত্রী।</p> <p> </p> <p> </p>
from entertainment https://ift.tt/2T1WJVY
via IFTTT
from entertainment https://ift.tt/2T1WJVY
via IFTTT